আরসিবির ব্যাক-টু-ব্যাক আইপিএল শিরোপায় পিভি সিন্ধুর অভিনন্দন | "লাকি চার্ম" মন্তব্যে মাতলেন ভক্তরা | IPL 2026 Final

আরসিবির ঐতিহাসিক জয়ে পিভি সিন্ধুর অভিনন্দন, ‘লাকি চার্ম’ মন্তব্যে মজলেন ভক্তরা


আরসিবির ঐতিহাসিক জয়ে পিভি সিন্ধুর অভিনন্দন, ‘লাকি চার্ম’ মন্তব্যে মজলেন ভক্তরা


আইপিএল ২০২৬-এর মঞ্চে আবারও ইতিহাস গড়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি)। রোববার, ৩১ মে, আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে গুজরাট টাইটান্সকে পাঁচ উইকেটে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতে নিল বেঙ্গালুরু। এক সময় যে দলকে ‘চিরকালীন আন্ডারডগ’ বলে ঠাট্টা করা হতো, সেই আরসিবিই এখন আইপিএলের নতুন রাজবংশ গড়ে তুলছে। এই ঐতিহাসিক জয়ের পর অভিনন্দনের জোয়ারে ভাসছে দলটি। আর সেই শুভেচ্ছা বার্তায় বিশেষ মাত্রা যোগ করলেন ভারতের তারকা ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় ও দুইবারের অলিম্পিক পদকজয়ী পিভি সিন্ধু।

সিন্ধু তাঁর ইনস্টাগ্রাম পোস্টে রসিকতার ছলে লিখেছেন, “আমি বলছি না যে আমি লাকি চার্ম। তবে আমি বেঙ্গালুরুতে আসার পর থেকেই তো আপনারা প্রতি বছর ট্রফি জিতছেন। অঙ্কটা কষে দেখুন!” এই মজার মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়। আরসিবি ভক্তরা যেমন উচ্ছ্বসিত, তেমনই ক্রীড়াপ্রেমীরাও সিন্ধুর রসবোধের প্রশংসা করেছেন।

তবে শুধু মজাই নয়, নিজের বার্তায় আবেগও উজাড় করে দিয়েছেন সিন্ধু। তিনি লিখেছেন, “আরসিবি দল, খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, মালিকপক্ষ এবং সব ভক্তদের অসংখ্য অভিনন্দন। এই ফ্র্যাঞ্চাইজিটি বছরের পর বছর ধরে এত আবেগ, পাগলামি, হৃদয়ভাঙা মুহূর্ত আর অটুট বিশ্বাস বহন করেছে। সেই দলকে পরপর দু’বার চ্যাম্পিয়ন হতে দেখা সত্যিই বিশেষ অনুভূতি।”

আরসিবির সমর্থকদের কথা আলাদা করে উল্লেখ করেছেন সিন্ধু। দীর্ঘদিন ধরে হতাশা আর ব্যর্থতার মাঝেও যাঁরা দলকে সমর্থন করে গেছেন, তাঁদের ধৈর্য এবং ভালোবাসার স্বীকৃতি দিয়েছেন তিনি। সত্যিই, একসময় আইপিএলে সবচেয়ে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের দলে নিয়েও শিরোপা জিততে ব্যর্থ হয়েছিল বেঙ্গালুরু। কিন্তু গত দুই মৌসুমে সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে বদলে গেছে গল্পের মোড়।

সিন্ধু আরও বলেন, “হায়দরাবাদ বনাম আরসিবি ফাইনাল হলে স্বপ্নের মতো হতো। এসআরএইচ বনাম আরসিবি ম্যাচ আমাদের আবেগে ভাসিয়ে দিত। কিন্তু বেঙ্গালুরু, তোমরাই এই জয় পাওয়ার যোগ্য। বছরের পর বছর হতাশার পর এই সাফল্য সত্যিই প্রাপ্য।”

এবারের আইপিএলে আরসিবির সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন অধিনায়ক রজত পাটিদার। তিনি শুধু নেতৃত্বেই নয়, ব্যাট হাতেও দারুণ পারফর্ম করেছেন। ১৫ ম্যাচে ৫০১ রান করেছেন ৪১.৭৫ গড়ে এবং ১৯২.৬৯ স্ট্রাইক রেটে। কোয়ালিফায়ার ১-এ গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে মাত্র ৩৩ বলে ৯৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি, যা দলের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়। তাঁর নেতৃত্বে দল যেন নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে।

পাটিদার এখন সেই বিরল তালিকায় নিজের নাম লিখিয়েছেন, যেখানে রয়েছেন কেবল মহেন্দ্র সিং ধোনি ও রোহিত শর্মা—আইপিএল শিরোপা সফলভাবে রক্ষা করা অধিনায়ক হিসেবে। এই কৃতিত্ব তাঁকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

ফাইনাল ম্যাচেও আরসিবি চাপের মধ্যে থেকেও অসাধারণ ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছে। গুজরাটের লড়াকু পারফরম্যান্স সত্ত্বেও বেঙ্গালুরু নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যায়। ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই দলগত সমন্বয় ছিল চোখে পড়ার মতো।

সিন্ধুর এই অভিনন্দন বার্তা যেন আরসিবির জয়ের আনন্দে আরও রঙ যোগ করেছে। বেঙ্গালুরু শহরের সঙ্গে তাঁর নতুন সম্পর্ক আর দলের টানা জয়ের মেলবন্ধন ভক্তদের কাছে মজার কাকতালীয় হলেও, এতে শহরের ক্রীড়া সংস্কৃতির একতা স্পষ্ট হয়েছে। ক্রিকেট আর ব্যাডমিন্টন—দুই ভিন্ন খেলার দুই তারকার এই সংযোগ যেন প্রমাণ করে, ক্রীড়ার আসল শক্তি একতায়।

আরসিবির এই সাফল্য শুধু একটি ট্রফি জয় নয়, এটি মানসিকতার পরিবর্তনের প্রতীক। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সাফল্য পেলে তার স্বাদ যে কতটা মধুর হতে পারে, তা নতুন করে বুঝিয়ে দিল বেঙ্গালুরু। আর পিভি সিন্ধুর ভাষায়, “অঙ্কটা কষে দেখুন”—হয়তো সত্যিই এই শহরে এখন জয়ের বাতাস বইছে। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন